Syed Tosharaf Ali
Journalist in Dhaka, Bangladesh
Syed Tosharaf Ali
Journalist in Dhaka, Bangladesh
সৈয়দ তোশারফ আলীর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
সমকালীন সাহিত্য ও সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে সৈয়দ তোশারফ আলী একটি পরিচিত নাম। সাহিত্য সমালোচনা, গবেষণাধর্মী নিবন্ধ ও সাবলীল অনুবাদ তাকে খ্যাতিমান করেছে। ছাত্রজীবনে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত থাকার সুবাদে তার সাংবাদিকতা ও সাহিত্য চর্চা রাজনৈতিক চেতনায় শাণিত। দীর্ঘ দিন যাবৎ তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির উপর বিশ্লেষণধর্মী ও সমালোচনামূলক মতামত রেখে যাচ্ছেন।
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং প্রবাসী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত অন্যতম পলিটিক্যাল মটিভেটর হিসাবে ৯নং সেক্টরে দায়িত্ব পালন এবং স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর নিজ এলাকার পুনর্গঠনে নেতৃত্বের ভূমিকা পালন করায় তাঁর অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ হয়।
তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে দক্ষিণ বাংলার নদী-নালা, খাল-বিল পরিবেষ্ঠিত সবুজ-শ্যামল গ্রামীণ পরিবেশে। শিক্ষা লাভ করেছেন বাগেরহাট, রাজশাহী ও ঢাকায়। উত্তর জনপদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির পাদপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে স্নাতকোত্তর পর্বে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি ১৯৭৬ সালে দৈনিক ইত্তেফাকের সম্পাদকীয় বিভাগে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে ইত্তেফাকের সম্পাদকীয় সহকারী, সহকারী সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে তিনি ইত্তেফাক থেকে অবসর গ্রহণ করেন। ইত্তেফাকের পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন সাপ্তাহিক রোববার-এর নির্বাহী সম্পাদক, সিনিয়র কলামিস্ট এবং সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশান পত্রিকাও তিনি বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন কৃতিত্বের সঙ্গে। ২০১৩ সালের জুন থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত তিনি 'দৈনিক বর্তমান' পত্রিকায় যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।
মহান মুক্তিযুদ্ধে সংক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সমাজসেবায় অবদান রেখে তিনি গান্ধী পিস অ্যাওয়ার্ড, শ্রীজ্ঞান অতীশ দীপঙ্কর স্বর্ণপদক, নওয়াব ফয়জুন নেসা স্বর্ণপদক, হাজী শরীয়তুল্লাহ মেমোরিয়াল অ্যাওয়ার্ড, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ পদক, স্বদেশ সমাজকল্যাণ সংসদের স্বাধীনতা পদক, কণ্ঠস্বর পদক, বাগেরহাট ফাউণ্ডেশন পদক, ঢাকা যুব ফাউন্ডেশন পদকসহ অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা লাভ করেছেন।
তার প্রকাশিত গ্রন্থের তালিকায় রয়েছে নির্বাচিত রাজনৈতিক কলাম, মুক্তির আলপনা, সমাজ ও সাহিত্য, সমাজ ও রাজনীতি,বাংলাদেশের হৃদয় হতে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের আলোকে রাগিব আলী, শেষ কথা কে বলবে?, বঙ্গীয় চিন্তার গতি ও গন্তব্য ইত্যাদি। তার অনূদিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, এম.এন রায়ের 'হিস্টোরিক্যাল রোল অব ইসলাম', 'ইসলামের ঐতিহাসিক ভূমিকা', মইনুল হোসেন-এর 'ঘুরে দাঁড়াতে হবে' এবং 'শেষলেখা'। তার সম্পাদিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'গণতন্ত্রের মানুষপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী', 'অবিস্মরণীয় মানিক মিয়া', 'সংবাদপত্রের স্বাধীনতা', 'মানিক মিয়ার চোখে সোহরাওয়ার্দী' ইত্যাদি।
তিনি একাধিক সামাজিক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য এবং বাংলা একাডেমি ও এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য। সৈয়দ তোশারফ আলীর পিতা মরহুম সৈয়দ ওয়াজেদ আলী (১৮৯৭-১৯৭০) ছিলেন কলকাতা ন্যাশনাল মেডিক্যাল স্কুল পাশ স্বদেশী চিকিৎসক, সমাজ ও সংস্কৃতিসেবী এবং তার মাতা মরহুমা সুলতানা রিজয়া (১৯২৮-২০০৬) ছিলেন একজন বিদূষী মহিলা। তাঁর স্ত্রীর দিলরুবা আলী। এ দম্পতির দুই পুত্র ও দুই কন্যাও স্ব স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।